Skip to main content

কম্পিউটার কিনে চলত নোট ছাপানো

নিজস্ব সংবাদদাতা
 
accused

অর্ঘ্য সাহা ও কৃষ্ণ পোড়ে

হাত পাকানো শুরু হয়েছিল পঞ্চাশ টাকা দিয়ে। তাতে ধরা না পড়ায় সাহস বাড়ে। তার পরেই শুরু করেছিল ২০০ টাকার নোট ছাপানো। সবটাই নকল!
দু’দিন আগে নকল নোট-কাণ্ডে এলাকার দুই যুবককে গ্রেফতারের পরে এমনটাই জেনেছেন তদন্তকারীরা। এমনকী, ধৃতদের জেরা করে শনিবার সকালে হদিস মিলেছে নকল নোট ছাপানোর কারখানার। যা ওই যুবকদের এক জনের বাড়িতেই গত এক মাস ধরে রমরমিয়ে চলছিল। এ দিন সেখানে হানা দিয়ে কম্পিউটারের হার্ডডিক্স-সহ স্ক্যানার-প্রিন্টার, চারটি অর্ধসমাপ্ত ২০০ টাকার নোট ও নোট ছাপার কাগজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৬টি ২০০ টাকার নকল নোট নিয়ে ডানলপ মোড়ে একটি দোকানে ঠান্ডা পানীয় কিনতে ঢুকে ধরা পড়ে অর্ঘ্য সাহা নামে এক যুবক। তাকে জেরা করে ওই দিনই ধরা হয় কৃষ্ণ পোঁড়েকে। দু’জনই জেরায় বারবার দাবি করেছিল, নকল নোটগুলি তাদের এক ব্যক্তি দিয়েছেন। কিন্তু সন্দেহ হওয়ায় দফায় দফায় জেরা করে পুলিশ জানতে পারে, বরাহনগরের শরৎচন্দ্র ধর রোডে কৃষ্ণর বাড়িতেই রয়েছে নকল নোট ছাপানোর কারখানা।
জেরায় তদন্তকারীরা জেনেছেন, ছোট থেকে কৃষ্ণ ও অর্ঘ্য একই স্কুলে পড়াশোনা করেছে। উচ্চমাধ্যমিক পাশের পরে পড়া আর এগোয়নি। মাস দুই আগে তারা ইন্টারনেট ঘেঁটে বিভিন্ন ভিডিয়ো দেখে নকল নোট বানানোর পরিকল্পনা করে। এর পরে ছেলে কৃষ্ণর চাপে পড়ে মাস দুই আগে কম্পিউটার, প্রিন্টার কাম স্ক্যানার কিনে দেন তার বাবা অনন্তবাবু। তিনি বলেন, ‘‘খুব কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে সব কিনে দিলাম। ছেলে বলেছিল, পড়ার কাজে লাগবে। এর থেকে বেশি কিছু জানি না।’’ কম্পিউটার পাওয়ার পরে গত এক মাস ধরে নকল নোট ছাপতে শুরু করে ওই দুই যুবক।
পুলিশ জেরায় জেনেছে, প্রথমে ৫০ টাকার নোট ছাপিয়ে তা কয়েক দিন বাজারে চালিয়েছিল তারা। কিন্তু কেউ নকল নোট বলে বুঝতে পারছে না দেখে ২০০ টাকার নোট ছাপতে শুরু করে দুই বন্ধু। জেরায় তাদের দাবি, ওই নকল নোট নিয়ে তারা কোনও দোকানে জিনিস কিনে টাকাটি ভাঙিয়ে কি‌ছু আসল টাকা পেত। এ ছাড়াও হাতে আসত কিছু জিনিস। সব মিলিয়ে দু’জনের রোজগার মন্দ হচ্ছিল না বলেই দাবি পুলিশের।
এ দিন শরৎচন্দ্র ধর রোডে গিয়ে দেখা গেল, ঘিঞ্জি গলির ভিতরে রয়েছে কৃষ্ণদের দোতলা বাড়ি। উপরের অংশ এখনও নির্মীয়মাণ। পিছনের অংশে থাকেন ভাড়াটেরা। বাড়িতে ঢুকেই সিঁড়ির কাছে কৃষ্ণর ঘর। সেখানেই চলত নকল নোট ছাপার কাজ। পুলিশ যাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকে দরজায় খিল এঁটে বসে অনন্তবাবুরা। কৃষ্ণর ঠাকুরমা গীতাদেবী ভাড়াটের ঘরে বসে কেঁদে চলেছেন। ছোট থেকে চেনা ছেলেটা যে এমন কাজ করতে পারে, বিশ্বাস করতে পারছেন না প্রতিবেশী বিশ্বনাথ সাহা, স্বপন দাসেরা। খবর পেয়ে এলাকায় আসেন কাউন্সিলর অঞ্জন পাল। তিনি বলেন, ‘‘অনন্তবাবু খুবই ভাল মানুষ। মাথায় করে আনাজ নিয়ে টবিন রোড বাজারে বিক্রি করে সংসার চালিয়ে ছেলেকে বড় করেছেন। কিন্তু ছেলে এমন কেন করল, বোধগম্য হচ্ছে না।’’ তবে এক মাস ধরে কৃষ্ণর আচরণে কি‌ছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন কয়েক জন প্রতিবেশী।
পুলিশকর্তারা জানান, নকল নোটগুলি পরীক্ষার জন্য ফরেন্সিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তবে এই নকল নোট-কাণ্ডে শুধু ওই দুই যুবকই জড়িত, না আরও কেউ রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Comments

Popular posts from this blog

পোশাক খুলে নাচতে বলেছিলেন ডিরেক্টর, ফের তনুশ্রীর বোমা

  দীর্ঘদিন বড়পর্দায় নেই অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। ফলে হেডলাইনেও ছিলেন না। ফিরেছেন বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে। নানা পাটেকের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্থার অভিযোগ এনেছেন দিন দু’য়েক আগেই। এ বার মুখ খুললেন পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর বিরুদ্ধে। ২০০৫-এ মুক্তি পেয়েছিল বিবেক পরিচালিত ছবি ‘চকোলেট’। অভিযোগ, তার সেটেই নাকি তনুশ্রীর সঙ্গে অভব্যতা করেছিলেন তিনি। পোশাক খুলে নাকি তনুশ্রীকে নাচের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিবেক। তবে তনুশ্রীর সহ অভিনেতা ইরফান খান এবং সুনীল শেট্টি নাকি ওই ঘটনার প্রতিবাদ করে নায়িকার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তনুশ্রী সম্প্রতি সাংবাদিকদেরবলেন, ‘‘চকোলেটের সেটে সে দিন আমার শট ছিল না। আমি অন্য এক অভিনেতাকে কিউ দিচ্ছিলাম। ওই অভিনেতা আমার দিকে তাকিয়ে এক্সপ্রেশন দেবেন, সেই কিউ দেওয়ার কাজ ছিল আমার। তখন পরিচালক আমাকে পোশাক খুলে নাচতে বলেছিলেন। আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম।’’ আরও পড়ুন,   ‘অন্তরঙ্গ হতে চেয়েছিলেন নানা পাটেকর’, এক দশক আগের বোমা ফাটালেন তনুশ্রী সে সময় তনুশ্রীর সাহায্যে এগিয়ে গিয়েছিলেন ইরফান খান। সে দিন ইরফানেরই শট চলছিল বলে জানিয়েছেন তনুশ্রী। তাঁর কথায়, ‘‘ইরফান বলেছিল আমার এক্সপ...

চেনা ইডেন শূন্য হাতেই ফেরাল গম্ভীরকে.

১৭ এপ্রিল, ২০১৮, ০৮:৪৬:১০ | শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল, ২০১৮, ১১:১৩:২০ এদিন ফের ওপেনিং কম্বিনেশন পরিবর্তন নাইটদের। ক্রিস লিনের সঙ্গী হলেন সুনীল নারাইন। কিন্তু ফাটকা কী আর রোজ রোজ খাটে!           জুটি: রাসেল-রানার শাসনে হার দিল্লির। ছবি সোমবার ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রতিপক্ষ কারা ছিল? যদি ভাবেন দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, তাহলে আপনি ডাহা ফেল! আসল লড়াইটা  তো ছিল কোনও এক গৌতম গম্ভীরের বিরুদ্ধে! তা প্রাথমিকভাবে অন্তত সেই লড়াইতে নাইটদের জোড়া আইপিএল দেওয়া অধিনায়ককে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতেই। তাঁর প্রিয় ইডেন থেকে। ফ্র্যাঞ্জাইজির দুনিয়া যে বড় নির্মম! শুরুর চার ওভার দেখে অবশ্য সেই কথা মনে হয়নি। বরং কাটাছেঁড়া চলতে পারত দীনেশ কার্তিকের অধিনায়কত্ব নিয়ে। টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন গম্ভীর। এবং এদিন ফের ওপেনিং কম্বিনেশন পরিবর্তন নাইটদের। ক্রিস লিনের সঙ্গী হলেন সুনীল নারাইন। কিন্তু ফাটকা কী আর রোজ রোজ খাটে! বিশেষত যেখানে শর্ট বলের প্রতি তাঁর দুর্বলতার কথা সকলেই জেনে গিয়েছে। হলও ঠিক তাই। তিন নম্বর ওভারেই শর্ট বল সামলাতে না পেরে প্রথম স্লিপে ধরা পড়লেন...

আই পি এল বেটিংয়ে শিলিগুড়িতে এক জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিসের গোয়েন্দা শাখা

আই পি এল বেটিংয়ে শিলিগুড়িতে এক জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিসের গোয়েন্দা শাখা On  April 25, 2018   আই পি এল বেটিংয়ে শিলিগুড়িতে এক জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিসের গোয়েন্দা শাখা(ডিডি)। সোর্স মারফত খবর পেয়ে ডিডির টিম শহরের বিধান রোডের একটি দোকানে হানা দিয়ে সুবীর রায় নামে এক ব্যক্তি কে ধরে। তার কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৩২ হাজার টাকা পাওয়া যায়, ফোনের মাধ্যমে ওই ব্যক্তি বেটিং করছিল বলে ডিডির অফিসাররা জানিয়েছন।